ভারতে ‘গণেশ’ বিসর্জন দিতে গিয়ে ১৮ জনের মৃত্যু



রোববার ‘অনন্ত চতুর্দশী’ বা চূড়ান্ত দিনের শেষে বিসর্জন শুরু হলেও ব্যাপক এ বিসর্জন উৎসব ৩০ ঘন্টা পর সোমবার বিকেলে শেষ হয় বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
১৩ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া মহারাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় এ উৎসবের শেষে পুরো রাজ্যজুড়ে লাখ লাখ গণেশ মূর্তি বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। গণেশ ভক্তরা নেচেগেয়ে তাদের দেবতার মূর্তি আরব সাগর, সাগরের খাঁড়ি, বিভিন্ন নদী, হ্রদ, পুকুর, কুঁয়া, কৃত্রিম ট্যাংক ও অন্যান্য জলাশয়ে বিসর্জন দেয়। 
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবার বিকাল থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় মুম্বাইয়ের ভান্ডপে এক জন, পুনেতে চার জন, রতনগিরিতে তিন জন, জালনায় তিন জন, ভানদারায় দুই জন, সাতারায় দুই জন এবং নানদেদ, বুলধানা ও আহমেদনগরে এক জন করে ডুবে মারা যায়।
সোমবার সকালে গিরগাউম চৌপট্টি এলাকায় আরব সাগরে গণেশ বিসর্জনের সময় অতিরিক্ত লোকবোঝাই একটি নৌকা উল্টে যায়। এখান থেকে তিন বালিকাসহ অন্তত পাঁচ জনকে উদ্ধার করা হয়।
মুম্বাইয়ের উত্তরপশ্চিমাংশে কান্দিভালি এলাকায় বিসর্জন দেওয়ার সময় গণেশের বিশাল একটি মূর্তি ভক্তদের উপর উল্টে পড়ে অন্তত ১৭ জন আহত হয়।
মহারাষ্ট্রজুড়ে এই বিশাল গণেশ বিসর্জন উৎসবে ছোট থেকে বড় বিভিন্ন আকারের প্রায় ১১ লাখ গণেশের মূর্তি বিসর্জন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
বর্ণিল এই বিসর্জন উৎসব দেখতে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, প্রতিবেশী দেশগুলো ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল থেকে আসা পর্যটকরা গিরগাউম চৌপট্টি এলাকায় হাজির হয়েছিল বলে জানিয়েছেন মহারাষ্ট্র ট্যুরিজম ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশনের এক মুখপাত্র। এসব পর্যটকের দেখার সুবিধার জন্য বিশেষ আয়োজন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
বোম্বে হাই কোর্ট এবারের উৎসবে ডিজে ও লাউডস্পিকারে গান বাজানো নিষিদ্ধ করায় ‍মুম্বাই ও অন্যান্য বড় শহরে শব্দদূষণহীন বিসর্জন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে খবরে প্রকাশ।

No comments

Theme images by IntergalacticDesignStudio. Powered by Blogger.