ট্রাম্পের ‘ধর মার ছাড়ে’ এবার ইরান


প্রায় এক বছর আগে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। গত জুনে সিঙ্গাপুরে ঐতিহাসিক বৈঠকের পর দুই দেশের দা-কুমড়া সম্পর্কের বেশ অবনতি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রস্তাবে সম্মত হন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উন। এবার আরেক শত্রু ইরানকে জোর করে আলোচনার টেবিলে আনতে চাইছেন ট্রাম্প। উত্তর কোরিয়ার মতো ইরানকে কাবু করতে একই পদক্ষেপ নিতে চান ট্রাম্প । তা হচ্ছে—‘সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ’। অনেকটা ‘ধর মার ছাড়ের’ মতো।
ইরানের ক্ষেত্রে বিষয়টি এতটা সহজ দ্রুত হবে কি না, এ নিয়ে সংশয় রয়েছে। গত বছর সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের অধিবেশনে নিজের প্রথম ভাষণে ট্রাম্প উত্তর কোরিয়া ও ইরানের ওপর তাঁর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের দর্শন প্রয়োগ করবেন বলে জানান।
এই এক বছরে কিম–ট্রাম্প সম্পর্কের ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। ‘ছোট্ট রকেট মানব’, যিনি আত্মঘাতী মিশনে ছিলেন, সেই কিমই এখন ট্রাম্পের কাছে ‘দুর্দান্ত’ নেতা হিসেবে প্রশংসা পাচ্ছেন। গত ১২ জুন সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত হওয়া ঐতিহাসিক বৈঠকে কোরিয়া উপদ্বীপে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয় উত্তর কোরিয়া। কিমের সঙ্গে খুব শিগগির নতুন আরেকটি বৈঠকে বসার আশা করছেন ট্রাম্প।
ইউরোপীয় কূটনীতিকেরা বলছেন, ট্রাম প্রশাসনের দৃঢ় বিশ্বাস যে তাঁর কঠোর মন্তব্য, ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্বের এই পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো সংশয় রয়েছে যে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে ঠিক উত্তর কোরিয়া কতটা যথার্থ পদক্ষেপ নিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে ইরানের সঙ্গেও ঠিক একই নীতিতে চলতে। প্রথমে ব্যাপক আঘাত, পরে আলোচনায় বসে নেতৃত্ব নিতে চান ট্রাম্প।
২০১৫ সালে ইরান বিশ্বের ছয়টি পরাশক্তির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে একমত হয়। ছবি: এএফপি২০১৫ সালে ইরান বিশ্বের ছয়টি পরাশক্তির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে একমত হয়। ছবি: এএফপি২০১৫ সালে ইরান বিশ্বের ছয়টি পরাশক্তির সঙ্গে তার পরমাণু কর্মসূচিসংক্রান্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে আসতে সম্মত হয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন ও রাশিয়া ছিল এই চুক্তির অংশীদার। চুক্তির পর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসে ইরান। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরান সংবেদনশীল পরমাণু কর্মকাণ্ড সীমিত করতে রাজি হয় এবং দেশটির বিরুদ্ধে আনা অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়ার শর্তে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের পরমাণু কর্মকাণ্ড পরিদর্শনে অনুমতি দেয়। তবে সেই চুক্তি থেকে চলতি বছর সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, ইরানকে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে এমন অবস্থায় নিতে হবে যখন দেশটির আলোচনায় বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসির জ্যেষ্ঠ ইরান বিশ্লেষক বেহনাম বেন তালেবলু বলেন, এটা পুরোপুরি সমান্তরালভাবে চলছে। তিনি বলেন, এটা বলা কঠিন নয় যে দুর্বৃত্ত শাসক ও পরমাণু বিস্তার নিয়ে কথা বলতে গেলে ইরান ও উত্তর কোরিয়ার নাম একসঙ্গেই বলতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, উভয় দেশকে শাস্তি দিতে সর্বাধিক চাপ প্রয়োগের কৌশল যথোপযুক্ত এবং জরুরি, তবে এটি পরিচালনা করা চ্যালেঞ্জিং হবে।
গতকাল সোমবার জাতিসংঘে অধিবেশনে ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি পুরোপুরি নাকচ করে দেন ট্রাম্প। তবে রুহানিও ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার কোনো আগ্রহ দেখাননি। উত্তর কোরিয়ার মতো পদক্ষেপ নিয়ে ইরানকে বিপাকে ফেলা যাবে—এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেন রুহানি। নিউইয়র্কে এনবিসি নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া মডেল সঠিক মডেল নয়। কারণ, আমরা ওই তুলনাতেই যাই না।’

No comments

Theme images by IntergalacticDesignStudio. Powered by Blogger.