কাশ্মীর শান্তি ফেরাতে ভারতের উদ্যোগকে স্বাগত জানাল আমেরিকা
৫ অগস্ট কাশ্মীরের উপর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। ওই সিদ্ধান্তের পর ভূস্বর্গের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে জম্মু-কাশ্মীরে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য মোদি সরকারের প্রশংসা করল আমেরিকা। তবে মোদি সরকার যে শুধুই প্রশংসা কুড়িয়েছে তা নয়, সঙ্গে ছিল কাঁটার খোঁচাও। কাশ্মীরে যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও স্বাভাবিক না হওয়ায় এবং রাজ্যের তিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী-সহ একাধিক রাজনৈতিক নেতাকে আটকে রাখার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আমেরিকা।
ওয়াশিংটনে কংগ্রেশনাল সাবকমিটি আয়োজিত দক্ষিণ এশিয়ায় মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একটি আলোচনায় আমেরিকার বিদেশ দফতরের মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া সংক্রান্ত বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অ্যালিস ওয়েলস বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মীরে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকার যথাযথ ভূমিকা পালন করেছে। কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা খারিজ করার যে সিদ্ধান্তে ভারত সরকার নিয়েছে আমরা তা সমর্থন করি। কিন্তু উপত্যকার বর্তমান পরিস্থিতি এখনও বেশ উদ্বেগের। সেখানে এখনও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসেনি। যে কারণে কাশ্মীরে ইন্টারনেট পরিষেবা এখনও চালু হয়নি। ফোনের ক্ষেত্রেও একাধিক বিধিনিষেধ চালু রয়েছে। রাজ্যের রাজনৈতিক নেতাদের অনেকেই এখনও আটক রয়েছেন।’ অ্যালিস আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে তাঁর দফতরের কথা হয়েছে। তাঁরা চান, মানবাধিকারকে অগ্রাধিকার দিয়ে যত শীঘ্র সম্ভব জম্মু-কাশ্মীরে ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা চালু হোক। অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর যে সব বিধিনিষেধ রয়েছে সেগুলি তুলে নেওয়া হোক। দ্রুত মুক্তি দেওয়া হোক রাজ্যের রাজনৈতিক নেতাদের।
তবে ওই সম্মেলনে কড়া ভাষাতেই পাকিস্তানের সমালোচনা করেছেন অ্যালিস। তিনি বলেন, লস্কর ই তৈবা এবং জৈশ এ মহম্মদের মতো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলিকে প্রশ্রয় দিয়ে চলেছে পাকিস্তান। তাদের অবিলম্বে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত হওয়া উচিত। দেশে একাধিক সমস্যা রয়েছে। পাক সরকারের উচিত, সেগুলি সমাধানে সচেষ্ট হওয়া। জঙ্গিদের মদত দিয়ে আখেরে পাকিস্তানের কোনও লাভ হবে না। বরং তারা আন্তর্জাতিক দুনিয়ায আরও একলা হয়ে পড়বে।’ উল্লেখ্য, কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করার পর ভারতকে সবক শেখাতে আমেরিকার দ্বারস্থ হয়েছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কিন্তু ইমরানকে হতাশ করে আমেরিকা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছিল, জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ভারত কী সিদ্ধান্ত নেবে তা একান্তই তাদের নিজস্ব ব্যাপার। অন্য কোনও দেশের সরকারের উপর হস্তক্ষেপ করার প্রশ্নই ওঠে না

No comments