‘চীনের চাপেই গিলগিট বালতিস্তানকে প্রদেশ বানাতে চায় পাকিস্তান’

 

‘চীনের চাপেই গিলগিট বালতিস্তানকে প্রদেশ বানাতে চায় পাকিস্তান’

পাকিস্তানের রাজনৈতিক কর্মী এবং বিশেষজ্ঞরা বলেছেন গিলগিট বালতিস্তানকে দেশের ৫ম প্রদেশ হিসাবে পরিণত করার জন্য চীনের নির্দেশে কাজ করে যাচ্ছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী । তাদের মতে, চীনের এই চাপ দেশটির অভ্যন্তরে  তাদের  বহু-বিলিয়ন ডলার চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিসি) সম্পন্ন করা ও ভবিষৎ সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এজন্য গিলগিট বালতিস্তানকে প্রদেশ করে সেখানে সামরিক শক্তি বাড়ানোর চক্রান্ত চলছে।

গত ৩ অক্টোবর জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৪৫তম অধিবেশনের অধীনে এক ছায়া অধিবেশনে "গিলগিট বাল্টিস্তানকে পঞ্চম প্রদেশ হিসাবে অর্ন্তভূক্ত করার পাকিস্তানী প্রচেষ্টা" শিরোনামে একটি ওয়েবিনারে বক্তব্য রাখছিলেন। ইউনাইটেড কাশ্মীর পিপলস ন্যাশনাল পার্টি (ইউকেপিএনপি) এই ওয়েবিনার আয়োজন করে।

ইউকেপিএনপির চেয়ারম্যান শওকত আলী কাশ্মীরি বলেন: "১৯৭৩ সালের পাকিস্তান সংবিধান অনুসারে কোনও সেনা প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক করার অধিকার রাখে না। তবুও দেশটির সেনা প্রধান জেনারেল বাজওয়া সেনা দফতরে দেশটির বিরোধী দলগুলির বেশ কয়েকজন নেতাকে ডেকে হুমকি ধামকি দিয়েছেন। বাজওয়া তাদের বলেছেন ‘আমরাগিলগিট বালতিস্তানকে ৫ম প্রদেশ হিসাবে গড়ে তুলতে চাই এবং এর জন্য আমাদের একটি সাংবিধানিক সংশোধনী করা দরকার এবং আপনারা (রাজনীতিবিদরা) এর বিরোধিতা করবেন না। "

"এটি এক ধরণের সতর্কতা এবং হুমকিও ছিল। সেই বৈঠককালে যারা শেহবাজ শরীফের মতো জেনারেল বাজওয়ার এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেননি তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছিল এবং আরও অনেক নেতার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।"

পাকিস্তানের মন্ত্রী আলী আমিন গন্ডাপুর ঘোষণা করেছিলেন যে সরকার গিলগিট-বালতিস্তানকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রদেশের মর্যাদায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেছিলেন যে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান শিগগিরই এই অঞ্চলটি পরিদর্শন করবেন এবং এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করবেন।

একটি বিরোধপূর্ন অঞ্চলকে এভাবে প্রদেশ ঘোষনায় পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত।   "গিলগিত-বালতিস্তান" নামে অভিহিত করে সামরিকভাবে দখল করা পাকিস্তান যে পদক্ষেপ নিয়েছে এর কোনও আইনগত ভিত্তি নেই।

তথ্যসূত্র: এএনআই

No comments

Theme images by IntergalacticDesignStudio. Powered by Blogger.